একটি ইউনিয়ন পরিষদ কি পাচ্ছে আর জনগণকে কি দিচ্ছে ? ভেবেছেন কি কখনো?

বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে সেবা
আমাদের পাওয়ার কথা তা,আমরা কতটুকু পেয়ে যাচ্ছি?

আয়তন লোকসংখ্যা ও লোকেশন বিবেচনায় বিশ্ব ব্যাংকের #এলজিএসপি-৩ এর আওতায় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ বছরে ২৫ লাখ থেকে ১কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পেয়ে থাকে।

এই টাকাগুলো কোন ঝক্কি-ঝামেলা কিংবা উপরি দেয়া ছাড়াই সকল দলের চেয়ারম্যানদের ইউপিগুলোতে চলে আসে।

ইট-ঢালাই, রাস্তা,কালভার্ট,বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগ, প্রাচীর, বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক মানের ড্রেসিং/ বাথরুম বানানো /এমন আরও হরেক রকম কাজে ব্যয় করা যায় এই টাকাগুলো।

নরমাল হিসেব করলেও প্রতিজন চেয়ারম্যান শুধু বিশ্ব ব্যাংক থেকে ৫ বছরে পায় দেড় থেকে পাঁচ কোটি টাকা। যে টাকা দিয়ে অনায়াসে একটা ইউনিয়ন সুন্দর ভাবে সাজানো সম্ভব।

তারপর আরও আছে।
যেমনঃ
কর্মসৃজন প্রকল্প থেকে ৩৫-৪০ লাখ টাকা।
এডিবি ১২-১৪ লাখ টাকা।
কাবিটা ১০-১২ লাখ টাকা।
কাবিখা ১০-১২ লাখ টাকা ইত্যাদি।

বন্যার প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি’র টাকা বাদেও আরো অসংখ্য বরাদ্দ আসে ইউনিয়ন পরিষদে। বিভিন্ন দুর্যোগ, মহামারীতে আসে বিশেষ বরাদ্দ নামে তাৎক্ষণিক খরচের টাকা। এটাও প্রকারভেদে আকারে হয় অনেক মোটা এবং তাজা। কিন্তু টাকাগুলো ব্যয় হয় কোথায় ?

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আরেকটি তহবিলে বিশাল অংকের টাকা জমা হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জমিজমা বেচাকেনার সরকারি ফি হিসেবে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যে টাকা আদায় করা হয় তার দুই শতাংশ হারে টাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিশেষ একাউন্টে জমা হয়।
এই তহবিল চেয়ারম্যান এলাকায় তার পছন্দমতো উন্নয়ন কান্ডে ব্যবহার করে তার হিসাব নিকাশ জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে।

একজন ইউপি চেয়ারম্যানের স্বদিচ্ছা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা, এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে তিনি নিজ ইউনিয়নের ভেতর পাড়া-গাঁয়ে প্রায় সকল কাঁচা-কাদা রাস্তা সংস্কার করাসহ জনদুর্ভোগ লাঘবে ছোট ছোট সকল সমস্যার সমাধান সরকারী ফান্ড থেকে করে দিতে পারেন।

অথচ চেয়ারম্যানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে বলেন বরাদ্দ নেই।তাহলে সরকার প্রতি বছর ইউনিয়নে যে টাকাগুলো দেয় সেগুলো কোথায় যায়?

কিন্তু বাস্তবতা কি ?

আমরা কি ইউপি থেকে সেই কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছি?
উত্তর আসবেঃ না ।
আমরা সরকারকে দোষারোপ করি। কিন্তু
আসলে সরকার থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যে পরিমাণ বরাদ্দ আসে তার খবর কি আমরা নিতে পারছি ?

আমরা কি আমাদের মনের মতো চেয়ারম্যান মানে
জনসেবক বানাতে আদৌ সক্ষম হচ্ছি?

বিষয়টি আমাদের চিন্তার জগতকে
জাগিয়ে তুলবে নিশ্চয়ই।

আমরা আমাদের প্রত্যেকের এলাকায়
ইউনিয়ন পরিষদের আয় ব্যয়ের
খবর নিতে পারি।
উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে নিজেদের পরিকল্পনা শেয়ার করতে পারি।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started