কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গত বুধবার রাতে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উত্তেজিত হয়ে উঠেছে মুহিবুল্লাহর পরিবার ও তার অনুসারীরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতা মো. মুহিবুল্লাহ হত্যার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। জঘন্য ওই অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চেয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মুহিবুল্লাহ হত্যার বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ আহ্বান জানান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের ওই বিবৃতিটি প্রচার করা হয়েছে। মুহিবুল্লাহের হত্যা নিয়ে বিবৃতি দিল আমেরিকার।
অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যার খবর আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত ও পর্যুদস্ত করেছে। সারা বিশ্বে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সুরক্ষায় তিনি ছিলেন এক সাহসী এবং শক্তিশালী প্রচারক। তিনি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের পাশাপাশি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের সভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ধর্মীয়ভাবে নিপীড়িত হওয়া জনগোষ্ঠী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঘন্য ওই অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে আমরা তাঁর হত্যার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানাই। আমরা রোহিঙ্গাদের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রেখে এবং রোহিঙ্গারা নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উচ্চকণ্ঠ হতে পারে, সে জন্য সহায়তার মাধ্যমে তাঁর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাব।
এদিকে অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন তাঁর টুইটে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সারা বিশ্বে রোহিঙ্গাদের পক্ষে একজন সাহসী নেতা হিসেবে তিনি বেঁচে থাকবেন।
একইভাবে ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি ট্রেম্বলে বলেছেন, ‘বাংলাদেশি প্রশাসনের কাছে আমরা এই ঘটনা নিয়ে দ্রুত তদন্তের আর্জি জানিয়েছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
সংবাদসংস্থা ডিপিএ-কে বাংলাদেশের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, ”ঘটনার তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।” ক্যাম্পের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কারা এই হত্যার পিছনে জড়িত, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে আনেনি।
মুহিবুল্লাহের ভাই অবশ্য সরাসরি সন্ত্রাসী যোগের অভিযোগ তুলছেন। তার বক্তব্য, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি (এআরএসএ) বা আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। মুহিবুল্লাহকে তারা হুমকি দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তার ভাই এবং বন্ধুরা।
দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন মুহিবুল্লাহ। তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের সভায় বক্তৃতা করেছেন। দেখা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছিলেন তিনি। সূত্র- ডিপিএ, রয়টার্স।
